Bangla
a year ago

অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য থেকে বাজেট সহায়তায় বাংলাদেশ; বাজেট ঋণে স্বস্তি মেলার ধারণা করছে আইএমএফ

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

Published :

Updated :

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রকল্প সাহায্যের পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ঋণদাতাদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি প্রদান করবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আরও লক্ষ্য করেছে যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছাড়াও, বিনিময় ভারসাম্যে বিঘ্ন এবং বিশেষত বহিরাগত অর্থায়নে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিদেশি ঋণদাতাদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা বাড়ানোর ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর থমাস হেলব্লিং বলেন, “সুতরাং, বাজেট ঋণ কিছুটা স্বস্তি প্রদান করবে।” 

প্রকল্প ঋণের পরিবর্তে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত সঠিক কি না এবং এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মি. থমাস বলেন, বাজেট সহায়তা ঋণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নীতিমালা সংস্কার করার সুযোগও প্রদান করবে।

এদিকে চলতি বছর আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বর্তমান সরকার বাজেট সহায়তা ঋণের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য কার্যক্রম জোরদার করেছে কারণ সদ্য ক্ষমতাচ্যুত সরকার রাষ্ট্রের কোষাগারকে সম্পূর্ণ "খালি" করে রেখে গেছে।

সরকার আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) সহ অন্যান্যদের কাছ থেকে মোট ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৮'শ কোটি টাকা) বাজেট সহায়তা চেয়েছে। এসব অর্থের মধ্যে, শুধুমাত্র আইএমএফের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩'শ কোটি টাকা), যা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জন্য আইএমএফের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (৪৭০ কোটি টাকা)  চলমান ঋণ কর্মসূচির বাইরে।

দেশের চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মি. থমাস বলেন, বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে পাশাপাশি ভয়াবহ বন্যারও শিকার হয়েছে। "ফলে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ করে সরবরাহ খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আমাদের পূর্বাভাসে এটিকেই মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখীতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "কিন্তু মূল্যস্ফীতি বেশ কিছুদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ২০২২ সালে এটি বাড়তে শুরু করে এবং সে সময় থেকেই তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। সুতরাং এখানে মুদ্রানীতি শক্ত করা সহায়ক এবং প্রয়োজনীয়।"  এ ক্ষেত্রে সম্প্রতি নীতি সুদহার বা রেপো রেট বাড়ানোটি সঠিক দিকে একটি পদক্ষেপ বলেও তিনি মনে করেন। 

এ ছাড়া আইএমএফের ডেপুটি ডিরেক্টর বলেন, যদিও সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির বেশিরভাগই সরবরাহ খাতের সাথে সম্পর্কিত ছিল, তবে তারা মনে করেন "দ্বিতীয় পর্যায়ের মূল্যস্ফীতির প্রভাব ঠেকানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি শক্ত করা যথেষ্ট কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের রাজস্বনীতি মুদ্রানীতিকে সমর্থন করা উচিত এবং বহিরাগত স্থিতিশীলতা সমর্থন করার জন্য কঠোর করা উচিত। 

এ ছাড়াও তিনি বলেন, “একই সময়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা এবং উন্নয়ন বজায় রাখতে রাজস্বনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।”

উল্লেখ্য গত অক্টোবর মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশে পৌঁছায় যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য মূল্যস্ফীতি অক্টোবর মাসে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায় যা আগের মাসে ছিল ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ চরম মূল্যস্ফীতি দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের ভোগান্তিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

Share this news